পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা কি - Occupational Health and Safety Rule - Cleanliness
পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা কি - Occupational Health and Safety Rule - Cleanliness
পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা কি - Occupational Health and Safety Rule - Cleanliness
পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিধি Occupational Health and Safety Rule
স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। স্বাস্থ্যের সঙ্গে মনের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে কাজে অমনোযোগিতা ও অসতর্কতার ভাব চলে আসে। আগে কাজের সময় এরূপ অসতর্কতার ফলে প্রায়ই নানা রকম দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। দুর্ঘটনার ফলে কর্মীর মৃত্যু, অঙ্গহানিসহ যন্ত্রপাতি ও সম্পদের প্রভূত ক্ষতি হয়। দুর্ঘটনায় পতিত পঙ্গুত্ববরণকারী কর্মীটি পরিবারের বোঝা ও অবহেলার পাত্র হয়ে বেঁচে থাকে। একটি দুর্ঘটনা সাড়া জীবনের কান্না। এক মুহুর্তের অসচেতনতাই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। এরণ ক্ষয়ক্ষতি আে কাম্য নয়। ইংরেজীতে একটি প্রবাদ আছে- 'Prevention is better than cure' অর্থাৎ 'প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ অধিকতর প্রের। সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ পোশাক পরিধান দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। কর্মক্ষেত্রে এরূপ দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিধির যথাযথ অনুসরণ ও প্রয়োগ করা উচিত।
সেফটি ইকুইপমেন্ট (Safety Equipment)
যে কোনো প্রকার প্রতিকূল অবস্থাকে প্রতিরোধের মাধ্যমে নিরাপদ পরিবেশ রূপান্তরের নামই সেফটি বা নিরাপত্তা। ওয়ার্কশপে প্রতিকুল অবস্থা প্রতিরোধের মাধ্যমে নিরাপন কর্ম-পরিবেশ তৈরি করার নামই অকুপেশনাল সেফটি বা পেশাগত নিরাপত্তা। ওয়ার্কশপে সামষ্টিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যে সকল সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয় তাদেরকে সেফটি ইকুইপমেন্ট নামে অভিহিত করা হয়। যেমন-হ্যান্ড গ্লোভস, হেলমেট ইত্যাদি।প্লাম্বিং কাজে ব্যবহৃত সেফটি ইকুইপমেন্ট (Safety Equipment uses for Plumbing)
সেফটি ইকুইপমেন্ট (পিপিই) হলো এমন ধরনের পোশাক, যন্ত্রপাতি বা বন্ধ যা একজন ব্যক্তিকে দুর্ঘটনা কারণে ক্ষতির সম্ভাবনা অথবা অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে।সেফটি ইকুইপমেন্টগুলির ব্যবহার (Lines of Safety Equipment)
প্লাম্বিং কাজে ব্যবহৃত সেফটি ইকুইপমেন্ট এর ব্যবহার নিম্নে উল্লেখ করা হলো-
হ্যান্ড প্রাত/ লেক | কর্মক্ষেত্রে হাভের সুরক্ষার জন্য হ্যান্ড প্রোভল / সেফটি গ্রোভস ব্যবহার করতে হয়। কর্মক্ষেত্রে ভারী বস্তুর আঘাত থেকে পাকে রক্ষা করার জন্য সেফটি সু ব্যবহার করা হয়। এছাড়া যদি কোনো কর্মচারীর পা বৈদ্যুতিক ঝুঁকির মুখোমুখি হতে পারে এমন আশা থাকলে রাবারের সু পরা উচিত।
পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিধি
হেলমেট
যে কর্মস্থলে ঝুলন্ত কোনো প্রকার ঝুঁকি থাকে এবং মাথাকে কোনো বস্তুর আঘাত থেকে রক্ষা করার জন্য হেলমেট ব্যবহার করতে হয়।
অ্যপ্রোন
কর্মক্ষেত্রে কর্মী ধুলো বালি ও বিভিন্ন প্রকার ধারালো যন্ত্রপাতির আঘাত থেকে নিজের শরীরকে রক্ষা করার জন্য সাধারণত অ্যাপ্রোন পরিধান করে থাকে ।
মাস্ক
কাজের সমর নাক ও মুখ দিয়ে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থের গন্ধ, ধুলাবালি ঢোকা প্রতিরোধ করার জন্য মাক্স ব্যবহার করা হয়।
সেফটি গগলস
চিপিং, প্রাইভিং, করাত, হাতুড়ি, বিদ্যুতের সাজা এ কি শক্তিশালী বায়ু শক্তির ব্যবহারের মতো কাজ থেকে চোখে ধুলো, ময়লা, ধাতু বা কাঠের চিপ প্রবেশ করতে পারে। তাই চোখের সুরক্ষার জন্য গণলিক ব্যবহার করতে হয়।
সেফটি বেল্ট
ঝুলন্ত কাজে নিজেকে পরে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সেফটি বেল্ট ব্যবহার করা হয়।
ইয়ার প্লাগ
কর্মক্ষেত্রে উচ্চ শব্দ প্রতিরোধ করে কানকে সুরক্ষিত রাখার জন্য ইয়ার প্রোটেক্টর বা ইয়ার প্লাগ ব্যবহার করা হয়।
ফাস্ট এইড বক্স
প্রাথমিক চিকিৎসা সংক্রান্ত সুরক্ষা সামগ্রী এ বক্সে সংরক্ষিত থাকে। প্রাথমিক চিকিৎসার কাজে উক্ত চিকিৎসা সামগ্রী ব্যবহার করা হয়।
পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা কি - Occupational Health and Safety Rule - Cleanliness
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা (Cleanliness) :
যখন কোনো প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ কর্ম পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে কর্মস্থল ঝাড়ু দেয়া, ধোয়া-মোজা করা, যন্ত্রপাতিকে বিধি অনুযায়ী সাজানো বা সংরক্ষণ করা, মেশিনপত্রের বিপদজ্জনক অবস্থাদি মেরামতসহ বৈদ্যুতিক ত্রুটি দূরীকরন এবং পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা করার নামই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা (Cleanliness)।পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য নিম্নরূপ ব্যবস্থাদি গ্রহণ করা যায়।
- প্রতিদিন অন্ততঃ একবার সমস্ত অফিস বোয়া মুছা করা।
- টয়লেট নিয়মিত পরিষ্কার (Toilet Wash) এবং পরিচ্ছন্ন রাখা
- খাওয়ার আগে এবং পরে বা যে কোনো কাজ শেষে সাবানের পরিবর্তে Liquid soap ব্যবহার করা। এতে করে রোগ জীবাণু ছড়ানোর হার কম থাকে
- টয়লেট (Toilet) এ টাওয়াল এর পরিবর্তে টিস্যু পেপার ব্যবহার করা। তা না হলে একই টাওয়াল সকলেই ব্যবহারের করলে নানা রোগ জীবাণু অন্য জনের মধ্যে ছড়াতে পারে। যা দেহের জন্য
- কর্মীর হাত-মুখ ধৌতকরণের পর্যাপ্ত সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা
- টয়লেট ও শাওয়ার এ পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা রাখা
- টয়লেট থেকে কমপক্ষে ২০ ফুট দূরে সুপেয় পানি (Drinking water) এর ব্যবস্থা রাখা
কারখানার নিরাপত্তা (Factory Safety):
একটি কারখানা বা ওয়ার্কশপ সুন্দর, সুষ্ঠু নিরাপদ রাখার জন্য যে সমস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তাকে কারখানা নিরাপত্তা বলে। কারখানার নিরাপত্তার জন্য দুটি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়।
পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিধি
ক) সংরক্ষণ ব্যবস্থা
খ) অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা
ক) সংরক্ষণ ব্যবস্থা :
সংরক্ষণ ব্যবস্থা বলতে কল কারখানায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, কাঁচা মাল হতে আরম্ভ করিয়া উৎপাদিত দ্রব্য বা তৈরি জব ও পরিত্যক্ত অংশ প্রভৃতিকে সযত্নে সুনির্দিষ্ট জায়গায় যথাযথভাবে রাখাকে সংরক্ষণ ব্যবস্থা বুঝায়।
খ) অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা :
অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা বলতে কারখানায় আগুন থেকে রক্ষা করার জন্য সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয় তাকে বুঝায়।
দুর্ঘটনা পরিণতি
- দুর্ঘটনার ফলে যে আহত হয় সে ব্যথা অনুভব করে; কাজ করতে তার অসুবিধা হয়।
- আর্থিক আয় কমে যায়।
- মারাত্মক দূর্ঘটনার ফলে কোনো অঙ্গ চিরতরে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
- দুর্ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির পরিবারে অন্য সদস্যদের আর্থিক কষ্ট ভোগ করতে
- দুর্ঘটনার ফলে কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়।
- কারখানায় মালিকেরও আর্থিক ক্ষতি হয়।
দুর্ঘটনা প্রতিকারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাদিঃ
- বিষাক্ত দ্রব্য ব্যবহার পরিহার
- ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সরঞ্জামাদি ব্যবহারঃ
- ব্যবহৃত যন্ত্রের ব্যবহার সম্পর্কে জ্ঞান থাকা
- পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ
- ব্যক্তিগত সচেতনতা গড়ে তোলা
- সুশৃঙ্খল কর্মস্থল ও পরিবেশ নিশ্চিত করা
প্রাথমিক চিকিৎসা (First Aid ):
হঠাৎ কোনো দূর্ঘটনায় আহত বা অসুস্থ লোককে ডাক্তার অথবা হাসপাতালে নেওয়ার আগে ঘটনাস্থলে বা নিকটবর্তী স্থানে তাৎক্ষনিকভাবে যে চিকিৎসা দেওয়া হয় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা বলে। অনেক সময় প্রাথমিক চিকিৎসার সাহায্যে একজন রোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলাও সম্ভব হয়। তাছাড়া রোগীকে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেওয়ার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত জীবিত বা সুস্থ রাখার জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা খুবই জরুরি।
পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা কি - Occupational Health and Safety Rule - Cleanliness
প্রাথমিক চিকিৎসার উদ্দেশ্য
১/ জীবন রক্ষা করা: এখানে বলা যায় যে, দূর্ঘটনার জন্য হোক অথবা অসুস্থতার জন্যই হোক প্রথমে মৃত্যুর হাত থেকে জীবন রক্ষার জন্য সচেষ্ট হতে হবে।
২/ গুরুতর আঘাতের পর অবস্থা খারাপের দিকে যাওয়া থেকে বিরত প্রাথমিক পর্যায়ে
৩/ রোগীর অবস্থা যেন খারাপের দিকে না যায়, সে ব্যবস্থা করতে হবে। অবস্থার উন্নতির সাহায্য করা: রোগীর বর্তমান অবস্থা থেকে উন্নত করার জন্য সাহায্য করতে হবে।
প্রাথমিক চিকিৎসকের দায়িত্ব ও কর্তব্য
১/ সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা
২/ কোথায় আঘাত সেটা খুঁজে বের করা।
৩/ তাৎক্ষনিক কিছু চিকিৎসা প্রদান করা
৪/ বিলম্ব না করে হাসপাতালে ইমার্জেন্সীতে রোগী প্রেরণ করা
৫/ কি করা উচিৎ নয় সেটা জানতে হবে
৬/ অবশ্যই করণীয় বিষয়গুলো জানতে হবে।
আগুনের উৎস এবং বিপদ সংকেত সম্পর্কে জানা:
উৎসের উপর ভিত্তি করে আগুন প্রধানত তিন প্রকার।
"এ" ক্লাশ ফায়ার
"বি" ক্লাশ ফায়ার
"সি" ক্লাশ ফায়ার
"এ" ক্লাশ ফায়ার এর উৎস: কাঠ, কাপড়, কাগজ এবং প্যাকিং ম্যাটেরিয়াল ।
"এ" ক্লাশ আগুন নিভানোর জন্য ব্যবহৃত এক্সটিংগুইসার > শুধু পানি দ্বারা নিভানো যায়।
- ওয়াটার টাইপ এক্সটিংগুইসার
- ফোম টাইপ এক্সটিংগুইসার ও বালি
"বি" ক্লাশ ফায়ার এর উৎস: পেট্রোল, কেরোসিন, গ্রীজ, রং তৈল, থিনার, মোম ইত্যাদি।
"বি" ক্লাশ ফায়ার নিভানোর জন্য ব্যবহৃত এক্সটিংগুইসার > ড্রাই কেমিক্যালিক পাউডার
- কার্বন ডাই অক্সাইড এক্সটিংএইসার
- ফোম টাইপ এক্সটিংগুইসার
"সি" ক্লাশ ফায়ার এর উৎসঃ বৈদ্যুৎতিক যন্ত্রপাতি যেমন- মটর জেনারেটর, কেবল, ওয়্যারিং সুইচ, সুইচ বোর্ড ইলেকট্রোনিক্স যন্ত্রপাতি ইত্যাদি।
"সি" ক্লাশ আগুন নিভানোর জন্য ব্যবহৃত এক্সটিংগুইসার পেশাগত স্বাচ্ছ ও নিরাপত্তা বিধি
- ড্রাই কেমিক্যালিক পাউডার
- কার্বন ডাই অক্সাইড এক্সটিংগুইসার
- কার্বন টেট্রাক্লোরাইড
আগুন লাগলে করণীয়
- বিচলিত করে উপস্থিত বুদ্ধি হারানো যাবে না। আগুন বলে চিত্কার করতে হবে এবং কারার ফাইটিং চর্চার মাধ্যমে উপরে উল্লেখিত অগ্নি নির্বাপক ব্যবহার করবে।
- ফায়ার সার্ভিস অফিসে ফোন করে জানাতে হবে।
- বৈদ্যুতিক আগুনের ক্ষেত্রে দ্রুত মেইন সুইচ বন্ধ করবে।
- প্রত্যেকে যার যার সুইচ বন্ধ করবে।
- হাতের কাছে যে টুকু পানি পাওয়া যায় সূচনাতেই আগুনের উপর তা নিক্ষেপ করবে।
- তৈল জাতীয় ও বৈদ্যুতিক জাগুনে পানি দিবে না এবং বৈদ্যুতিক আগুনে ফোম টাইপ, এক্সটিংগুইসার ব্যবহার করবেনা। বালি বা ভেজা মোটা কাপড় অথবা ভেজা কল দিয়ে আগুন চাপা দিবে ।
- পড়নের কাপড়ে আগুন লাগলে সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে গড়াগড়ি দিবে বা ভেজা কাল জড়িয়ে ধরবে। ভুলেও দৌড়াবে না, দৌড়ালে আগুন বেড়ে যাবে। কি "সি" ক্লাশ আগুন নিভানোর জন্য পানি বা ফোম ব্যবহার করবে না
বিপদ সংকেত :
আগুন লাগলে ফেসৰ সতৰ্কতা মূলক বিপদ সংকেত ব্যবহৃত হয় সেগুলিকে ফায়ার হ্যার্থাড নামে অভিহিত করা হয়। যেমন- এলার্ম বা বর্ণ, স্মোক ডিটেকটর, লাল বাতি এবং সাইরেন ইত্যাদি। কোথাও আগুন লাগলে দমকল বাহিনী তাদের গাড়িতে ঘন্টা, লাল এলার্ম লাইট, সাইরেন বাজাইয়া থাকে। কল- কারখানার, অফিস আদালতে, বাসা বাড়ী তে লাল এলার্ম লাইট লাগানো থাকে। আগুন লাগলে ঘন্টা বাজানো হয়। অথবা সুইচ অন করলে এলার্ম বেজে উঠে।
ওয়াকালে জাগুন লাগলে নিম্নলিখিত কাজগুলো তাড়াতাড়ি করা উচিত
- আগুনের এলার্ম বাজাতে হবে বা চিৎকার করে সকলকে জানাতে হবে।
- ফায়ার ব্রিগেডকে আগুন ধরার সংবাদ দিতে হবে।
- আগুনের শ্রেণি অনুযায়ী সঠিক কান্নার এক্সটিংগুইসার দিয়ে আগুন নিভানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
- আগুন ব্যাপকভাবে জ্বলতে শুরু করলে অথবা আগুন নিভাতে অসমর্থ হলে নিজের আত্মরক্ষার জন্য ঐ স্থান ত্যাগ করতে হবে।
সেফটি ব্যবহার বিধি (Safety Usage Rules)
সেফটি বিধি (Safety Rules)
সেফটি (Safety) একটি ইংরেজী শব্দ। যার অর্থ নিরপত্তা। কোন কাজ করার সময় নিজেকে সকল প্রকার ঝুঁকি ও বিপদ মুক্ত রাখার জন্য যে কলাকৌশল অবলম্বন করা হয় তাই সেফটি। যে কোনো কাজ করার সময় নিরাপত্তার বিষয়টি সর্ব প্রথম গুরুত্ব দেয়া হয়। আগে নিরাপত্তা গল্পে কাজ (Safety frist than work)। ওয়ার্কশপে নিরাপত্তার জন্য যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তাকে সেফটি বা নিরাপত্তা বিধি নামে অভিহিত করা হয়।
কার্যক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তাকে পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা (Occupational Health and Safety) বিধি বা সংক্ষেপে OHS বলে ।
ব্যক্তিগত নিরাপত্তার সহজ (Personal Protective Equipment - PPE): ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য যে সকল সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয় তাকে PPE বলে ।
সেফটির প্রকারডেল: নিরাপত্তা ৪ প্রকার যথা-
ক. ব্যক্তিগত নিরাপত্তা
খ. কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা
পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিধি
গ. বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা
ঘ. মেশিনারিজ নিরাপত্তা
পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা (OHS) নীতিমালা
১. ওয়ার্কশপে প্রশিক্ষক এর কথা সব সময় মনোযোগ দিয়ে শুনবে এবং তার নির্দেশনা মেনে চলবে ।
২. কাজের সময় অ্যাপ্রোন পরিধান করবে ।
৩. প্রয়োজন অনুযায়ী জুতা, মাক্ষ এবং পগঞ্জ পরিধান করবে ।
৪. কারখানার ভিতর ইর্মাজেন্সি বাটন কোথায় তা জেনে নিবে ।
৫. কোন মেশিন প্রশিক্ষক ছাড়া ব্যবহার করা উচিত নয় ।
৬. কখনও বৈদ্যুতিক খোলা তারে হাত দিবেনা ।
৭. ঘূর্ণায়মান মেশিন থেকে দূরে থাকতে হবে।
৮. কর্মস্থলে কোন তরল পদার্থ পড়লে সাথে সাথে মুছে ফেলতে হবে
৯. তৈলাক্ত হাত দিয়ে যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না।
১০. যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হবে ।
১১. ওয়ার্কশপে অগ্নি নির্বাপনের অবস্থান ও ব্যবহার সম্পর্কে জানা ।
১২. ফার্স্ট এইড বক্সের অবস্থান ও ব্যবহার সম্পর্কে জেনে নিতে হবে ।
১৩. কাজের শেষে ওয়ার্কশপের সব মেশিন এবং সুইচ বন্ধ আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে ।
কারখানায় সর্তকতামূলক বিধিসমূহ
শিল্প বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যার উন্নয়নের সাথে সাথে দূর্ঘটনার রূপ এবং কারণ পরিবর্তিত হচ্ছে। আবার সেই সঙ্গে দুর্ঘটনা প্রতিরোধের কলা-কৌশলেরও পরিবর্তন ও উন্নয়ন ঘটছে। তবে সবচেয়ে উত্তম এবং কার্যকরী কৌশল হলো সতর্কতা এবং সজাগতা। সতর্ক এবং সজাগ কর্মীই হলো সবচেয়ে বেশি নিরাপদ। ওয়ার্কশপে কর্মরত অবস্থায় বিভিন্ন প্রকার মেশিন বা যন্ত্র হতে অনেক প্রকার দূর্ঘটনা এবং বিপদের আশঙ্কা থাকে। বিভিন্ন প্রকার বিধি পালনপূর্বক এ সময় বিপদ বা দুর্ঘটনা হতে মুক্ত থাকা সম্ভব।
নিম্নে ওয়ার্কশপে পালনীয় সতর্কতামূলক বিধিসমূহ উল্লেখ করা হলো।
১. যে কোন কাজে সঠিক এবং নিরাপদ টুলস ব্যবহার করতে হবে।
২. ঢিলা পোষাক পরিধান করে কাজে যাওয়া যাবে না। ৩. কাজ করার সময় আংটি, বালা, ঘড়ি ইত্যাদি হাতে রাখা অনুচিত।
৪. খালি পায়ে বা স্যান্ডেল পড়ে ওয়ার্কশপে প্রবেশ নিষেধ ।
৫. মেজে সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
৬. পর্যাপ্ত আলো ব্যতিত কাজ করা অনুচিত।
৭. মেশিনের ব্যবহার প্রণালী ভালভাবে জানা না থাকলে তা চালানো অনুচিত।
৮. বিপদজনক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যাবে না।
৯. মেশিন চালু অবস্থায় পরিষ্কার, সমন্বয়, মেরামত বা তৈলাক্তকরণ করা যাবে না।
১০. সুপারভাইজরের অনুমতি নিয়ে তাদের তত্ত্বাবধানে ওয়ার্কশপে কাজ করতে হবে।
১১. মেশিন চালানোর পূর্বে নিশ্চিত হতে হবে যে মেশিনে চালনার উপযোগী কিনা।
১২. কাজের শেষে যন্ত্রপাতি নির্ধারিত স্থানে রাখতে হবে। ১৩. ওয়ার্কশপে দৌড়াদৌড়ি করা যাবে না।
যে কোনো প্রকার দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য ওয়ার্কশপ পরিচ্ছন্ন রাখার গুরুত্ব অপরিসীম।
সাধারণত রোগ প্রতিষেধক ব্যবস্থা
- স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন থাকা
- সর্বক্ষেত্রে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা
- চুল, দাঁত, নখ ও ত্বকে যত্ন নেওয়া
- বাসস্থানের পরিবেশ খোলামেলা ও শুল্ক হওয়া
- নিরাপদ পানীয় টিউবওয়েল, সাপ্লাই পানি (আর্সেনিক মুক্ত) খাওয়া রান্নার কাজে ব্যবহার করা
- দৈনন্দিন ব্যবহার্য পানি বিশুদ্ধ হওয়া
- বাড়িতে এবং কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানেটারি ল্যাট্রিন ব্যবহার করা
পেশাগত অসুস্থতা ও তার প্রতিকার (Ocupational Diseases & Prevention)
কর্মরত অবস্থায় একজন শ্রমিক বা কর্মচারী সাধারণত ৩ টি কারণে অসুস্থ হতে পারে -
কর্মস্থলের পরিবেশ সংক্রান্ত:
বিশৃংখলা, উচ্চ শব্দ, উচ্চ তাপমাত্রা, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল ও আলোর অভাব এবং ধোয়া, ধুলার কারণে একজন কর্মী নানা রকম রোগে আক্রান্ত হতে পারে। যেমন- দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, শ্রবণ শক্তি কমে যাওয়া, শ্বাসনালী, ফুসফুস সংক্রান্ত, যক্ষা, শ্বাসনালীর প্রদাহ, ফুসফুসের ক্যান্সার ইত্যাদি।
কর্মী সংক্রান্ত:
প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাব, নির্দেশনা সংক্রান্ত জ্ঞানের অভাব, বয়স ও দৈহিক সামর্থ্যের অভাবে ও নানা রকম অসুস্থতা দেখা দিতে পারে।
মানসিক অসুস্থতা :
কর্মক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা সহকর্মীদের অস্বাভাবিক আচার-আচরণ, বৈষম্য, চাকুরীর অনিশ্চয়তা, নিম্ন মজুরী, অতিরিক্ত কাজের চাপ, দীর্ঘ কর্মঘন্টা, অকারণে হয়রানি, নির্যাতন একজন কর্মীর উপর বিরুপ প্রভাব বিস্তার করে যা তার কর্মক্ষেত্রে উৎসাহ উদ্দীপনা কমিয়ে দেয় এবং কাজের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে ধীরে ধীরে একসময় সে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
পেশাগত অসুস্থতা প্রতিরোধ (Prevention of Occupational diseases)
কর্মরত অবস্থায় সৃষ্ট অসুস্থতাকে ৩ ভাবে প্রতিরোধ করা যায়:
- প্রিমেডিকেল পরীক্ষা নিরিক্ষা (Premedical Examination) : অর্থাৎ একজন কর্মী নিয়োগের পূর্বেই তাকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা মেডিকেল Check up করিয়ে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া।
- কাজের উপযোগী পরিবেশ (Fresh working Envioronment) অর্থাৎ কর্মস্থলের পরিবেশকে কর্মীর
- কাজের উপযোগী করে রাখা। যেমন- পর্যাপ্ত আলো ও বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখা।
- প্রয়োজন অনুযায়ী এবং যথাযথভাবে PPE (Personal protective Equipment) ব্যবহার করা।
- যেমন-হেলমেট, গগলিক, হ্যান্ডস গ্লোভস, ইয়ার প্লাগ, সেফটি সু, এ্যাপ্রোন ।
- প্রাতিষ্ঠানিক সদাচারণ (Orginizational behavior) : Labor Law-২০০৬ অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কর্তৃক একজন কর্মীর প্রাপ্য সদাচারণ, বৈষম্য দূরীকরণ, চাকুরীর নিশ্চয়তা দান, অকারণে হয়রানী, মানসিক নির্যাতন ইত্যাদি দূরীকরণের মাধ্যমে একজন কর্মীকে সুস্থ পরিবেশে কাজের উদ্দীপনা বাড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। এজন্য H.R Department এর পক্ষ থেকে মাঝে মাঝেই Organizational behavior এর উপর সচেতনামূলক প্রগ্রাম এর মাধ্যমে সবার মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা যেতে পারে।
সেফটি বিধি পালনের প্রয়োজনীয়তা
- নিজের জীবনের নিরাপত্তার জন্য
- মাথাকে রক্ষা করার জন্য
- হাত, পা রক্ষা করার জন্য
- চোখকে রক্ষা করার জন্য
- নাকে ধুলোবালি প্রবেশ এড়িয়ে স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য
- টুলস ও ইকুইপমেন্ট এর নিরাপত্তার জন্য।
- কাঁচামালের অপচয় কমিয়ে আনার জন্য
- উত্তম কর্ম পরিবেশ বজায় রেখে সুষ্ঠুভাবে কাজ পরিচালনার জন্য
- সেফটি বিধি পালনে নিম্নলিখিত বিষয়াদি শনাক্তকরণ হওয়া প্রয়োজন হয়-
যন্ত্রপাতির বিপদজনক অবস্থাদি শনাক্তকরণ: কারখানায় কাজের সময় সাবধানতার সাথে যন্ত্রপাতি ব্যবহার করলে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কম থাকে।
কাজ শুরুর পূর্বে নিম্নবর্ণিত ব্যবস্থাদি গ্রহণ করা উচিত-
- যন্ত্রপাতি ব্যবহারের পূর্বেই এর ব্যবহার বিধি জানা প্রয়োজন ব্যবহার করার পূর্বে যন্ত্রপাতি ঠিক আছে কিনা দেখতে হবে।
- ভোতা, ভাঙ্গা, হাতলবিহীন বা ঢিলা হাতলযুক্ত যন্ত্রপাতি দিয়ে কাজ করা উচিত নয়।
- জব ভাইস ক্লাম্পে দৃঢ়ভাবে বেঁধে কাজ করা উচিত যন্ত্রের হাতলে যেন তৈলাক্ত দ্রব্য না লাগে সেদিকে লক্ষ্য রাখা উচিত
- যন্ত্রপাতি কখনও এলোমেলোভাবে রেখে কাজ করা উচিত নয়
- যে যন্ত্রের ব্যবহার প্রণালী জানা নেই সে যন্ত্র ব্যবহার করা উচিত নয়
- ঢিলা পোষাক পরিধান করে এবং খালি পায়ে কাজ করা উচিত নয় কাজের সময় কখনও অমনোযোগী হওয়া উচিত নয়
- কম আলো বা অন্ধকারে কাজ করা উচিত নয়
- কাজের শেষে প্রতিটি মেশিনও যন্ত্রপাতি যথাযথভাবে পরিষ্কার করতে হবে
- মাথাকে রক্ষার জন্য শক্ত প্লাস্টিক হেলমেট ব্যবহার করতে হবে
- চোখকে রক্ষার জন্য গগলিক পরিধান করা উচিত
যন্ত্রপাতির বিপদমুক্ত অবস্থা শনাক্তকরণ
কারখানায় কাজের সময় উপযুক্ত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করলে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কম থাকে। সেজন্য কাজ
শুরুর পূর্বে নিম্নবর্ণিত বিপদমুক্ত অবস্থা শনাক্তকরণ করা উচিত-
- কারখানায় কাজের জন্য যে মেশিন বা যন্ত্র উপযুক্ত সেই নির্দিষ্ট মেশিন বা যন্ত্র ব্যবহার করতে হবে।
- ত্রুটিযুক্ত মেশিন বা যন্ত্রকে কার্যোপযোগী করে ব্যবহার করতে হবে।
- বিদ্যুৎ চালিত যন্ত্র বা মেশিন চালানার পূর্বে অবশ্যই বৈদ্যুতিক লাইন সঠিক আছে কিনা যাচাই করতে হবে এবং এর পরিচালনার সঠিক পদ্ধতিগুলো জানা আবশ্যক।
- ঘূর্ণায়নকৃত যন্ত্রের সাথে টুলস বা সরঞ্জাম সংযুক্ত থাকলে তা সরিয়ে কাজ করতে হবে।
