সিউয়ার কি - what is a sewer line - Sewage system - সয়েল লাইন

 সিউয়ার কি - what is a sewer line - Sewage system - সয়েল লাইন
সিউয়ার কি - what is a sewer line - Sewage system - সয়েল লাইন


সিউয়ার কি - what is a sewer line - Sewage system - সয়েল লাইন

সিউয়ার লাইন স্থাপন Sewer Line Installation

আমাদের বসত-বাড়ি, কল-কারখানা, হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত ইত্যাদি থেকে মানুষের মলমূত্র এবং গোসলখানা, রান্না ঘর ইত্যাদি হতে নির্গত ধোয়ানি পানি ও অন্যান্য তরল বর্জ্য পদার্থ অপসারণ করার জন্য যে পাইপ ব্যবহার করা হয়, তাকে সয়েল পাইপ বলে। সয়েল পাইপের ভিতর দিয়ে সিউয়েজ হাউজ ট্রেনে এসে পড়ে এবং সেখান থেকে সিউরো পৌর সিউয়ার পাইপের সাথে সংযোগ করে দেয়া হয়। এর মাধ্যমে সহজেই সিউয়েজ অপসারিত করে পরিবেশকে দূষণ মুক্ত রাখা যায় ।

সয়েল লাইন তৈরির কাঁচামাল, টুলস, ফিটিংস
সয়েল লাইন তৈরিতে ব্যবহৃত টুলস

প্লাম্বিং কাজে সরেল লাইন স্থাপন খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কারণ সয়েল লাইন প্রস্তুত বা স্থাপন না করলে সিউরেজ অপসারণ করা সম্ভব হবে না। সয়েল লাইন স্থাপনের জন্য নিম্নোক্ত টুলসগুলো ব্যবহার করা হয়ে থাকে-

সয়েল লাইনে ব্যবহৃত টুলস এর ব্যবহার

  • কোদাল (Spade)
কোনাল (Spade) দিয়ে সাধারণত মাটি খনন করার কাজ করা হয়। তাছাড়া কোদাল দিরে যে কোনো ধরণের কন্সট্রাকশন কাজে ব্যবহার করা হয়। কংক্রিট মিক্সার করার কাজে কোদাল ব্যবহার করা হয়।

  • বেলচা (Shovel)
ফেলচা (Shovel) যে কোনো ধরণের কন্সট্রাকশন কাজে ব্যবহার করা হয়। কংক্রিট মিক্সার করার কাজে, কংক্রিট কড়াইএ উঠানোর কাজে, বিভিন্ন ধরনের কাঁচামাল বহনের সময় উঠা নামা করানোর জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া কঠিন বর্জ্য পদার্থ পরিষ্কার করার কাজেও বেলচা ব্যবহার করা হয়।

  • কুর্নি (Trowel)
কুর্দি (Trowel) সাধারণত কলট্রাকশন কাজে ব্যবহার করা হয়। ইটের গাঁথুনি প্লাস্টার, পরেন্টিং ইত্যাদি কাজ করার কাজে কুর্দি ব্যবহার করা হয়।

  • কড়াই (Saucepans)
কড়াই (Saucepana) কলট্রাকশন কাজে ব্যবহার করা হয়। কনট্রাকশন কাজে কংক্রিট ও মসলা পরিবহনের জন্য কড়াই ব্যবহার করা হয়। এছাড়া মাটি খনন করার সময় পরিবহন কাজেও কড়াই ব্যবহার করা হয়।

  • হ্যাকস(Hack saw)
হ্যাকস (Hack saw) দ্বারা কোনো কিছু কাটার কাজে ব্যবহার করা হয়। প্লাম্বিং কাজ করার সময় পাইপ কাটার কাজে এটি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন প্রকার ধাতব পদার্থ কাটার কাজেও হ্যাকস ব্যবহার করা হয়।

  • হ্যামার (Hammer)
হ্যামার ( Hammer) কোন কিছুকে আঘাত করার কাজে ব্যবহার করা হয়। কাজের ধরন অনুযায়ী হ্যামার। বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। কন্ট্রাকশন কাজের জন্য হ্যামার একটি গুরুত্বপূর্ণ টুলস।

  • কোল্ড ডিজেল (Cold Chisel)
কোল্ড চিলে (Chisel) কন্সট্রাকশন কাজে ও প্লাম্বিং কাজে ব্যবহার করা হয়। পানি সরবরাহ ও নিষ্কাশন লাইন স্থাপন করার সময় ওয়াল ও স্লাব এ এন্ড কাটার জন্য কোল্ড চিজেল ব্যবহার করা হয়।

  • কম্প্যাক্ট মেশিন (Compact Machine)
কম্পেষ্ট মেশিন (Compact Machine) মাটি দৃঢ়করণ করার কাজে ব্যবহার করা হয়। রাস্তা তৈরি, ড্রেনেজ লাইন তৈরি, সিউয়েজ লাইন ইত্যাদি কাজের সময় মাটি দৃঢ়করণ করার জন্য ব্যবহার করা হয়।

  • স্পিরিট লেভেল (Spirit Level)
স্পিরিট লেভেল (Spirit Level) পাইপ লাইন স্থাপন করার কাজে ব্যবহার করা হয়। পাইপের স্লোপ সঠিক আছে কি না, পাইপ সমতল আছে কি না যাচাই করার জন্য স্পিরিট লেভেল ব্যবহার করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন ফিচার স্থাপন করার জন্যও স্পিরিট লেভেল ব্যবহার করা হয়।

  • লেভেল মেশিন (Level Machine)
লেভেল মেশিন সাধারণত জরিপ কাজে ভূমির উঁচু নিচু নির্ণয় করার জন্য ব্যবহার করা হয়। রাজা, সিউরেন্স লাইন, ড্রেনেজ লাইন ইত্যাদির ঢাল প্রদানের জন্য লেভেল মেশিন ব্যবহার করা হয়।

সয়েল লাইন তৈরিতে ব্যবহৃত ফিটিংস
সয়েল লাইন তৈরিতে বিভিন্ন ধরণের ফিটিংস ব্যবহার করা হয়। উল্লেখযোগ্য ০৫ টি ফিটিংস এর নাম নিচে দেয়া হলো-

  • ৪৫ ডিগ্রী এলবো (45° Elbow)
  • ৪৫ ডিগ্রী ভোর এলবো (45° Door Elbow)
  • ৯০ ডিগ্রী এলবো (90° Elbow)
  • ৯০ ডিগ্রী ডোর এলবো (90° Door Elbow)
  • কাপলার (Cuplar
  • সফেট (Socket)
  • অফসেট (Offset)

সয়েল লাইন বসানোর জন্য ডেইন তৈরি
সয়েল লাইন স্থাপন করার জন্য খাদ খনন পদ্ধতি

  • খাদ খনন করার পূর্বে সয়েল লাইন স্থাপনের জন্য ড্রইং বা নকশা প্রস্তুত করতে হবে।
  • লে-আউট তৈরি করার সময় সয়েল লাইন যে দিক দিয়ে যাবে, তার মাঝ বরাবর মার্ক করে রাখতে হবে।
  • খাল খনন করার সময় পূর্বে স্থাপিত মাথ রেখাটি সাইট রেল ও বোনিং রঙ পদ্ধতির সাহায্যে খানের তলদেশে স্থানান্তরিত করতে হয়, যাতে মধ্য রেখাটি বিলুপ্ত না হয়।
  • এরপর সয়েল পাইপের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী স্পিরিট লেভেল ও লেভেল মেশিন এর সাহায্যে ঢাল নির্ণয় করতে হবে।
  • ঢাল ঠিক রাখার জন্য উঁচু থেকে নিচের দিকে পর্যায়ক্রমে খান খনন করা হয়।
  • খাদ খনন শেষ হলে বালি দ্বারা ভিত্তি স্তর গঠর করে পরবর্তী কাজ সম্পন্ন করা হয়।

সয়েল লাইনে ব্যবহৃত পাইপের আকার
উপাদানের উপর ভিত্তি করে সয়েল পাইপ বিভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে। যেমন: কাস্ট আয়রন, স্টিল, পি.ভি.সি, ইউ.পি.ভি.সি, অ্যাসবেস্টস সিমেন্ট ও সিমেন্ট কংক্রিট ইত্যাদি। সচরাচর যে আকারের পাইপগুলো বহুল ব্যবহৃত হয় তাদের তা নিম্নে দেয়া হলো-

ইমারত থেকে মেইন লাইনে সয়েল লাইন সংযোগ

সিউয়ার কি - what is a sewer line - Sewage system - সয়েল লাইন

ইমারত (Building)

ইমারত বলতে সাধারণত যে কোনো ধরনের অবকাঠামোকে বোঝায়। বসবাসের উপর ভিত্তি করে ইমারতকে বিভিন্ন ভাবে ভাগ করা যায়। যেমন : আবাসিক ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, শিল্প কারখানা, স্টোর, গোডাউন ইত্যাদি। সুতরাং আমরা বলতে পারি, আমাদের দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজ সম্পাদনের জন্য ইট, বালি, সিমেন্ট, রড ইত্যাদির সমন্বয়ে যে আশ্রর স্থল গড়ে উঠে, তাকে ইমারত বলে।

ইমারত থেকে মেইন নিউয়ারে সংযোগের প্রয়োজনীয়তা
ইমারত যে কোন ধরণেরই হোক না কেন, তা হতে সিউয়েজ প্রবাহিত হবেই। তবে ব্যবহার ও ইমারতের ধরণ অনুযায়ী সিউয়েজ কম বেশি হতে পারে। ইমারত থেকে এ সিউয়েজ মেইন সিউয়ারে সংযোগের প্রয়োজনীয়তা নিচে আলোচনা করা হলো :

  • ইমারত হতে সিউরেজ সঠিকভাবে অপসারণের জন্য।
  • ব্যবহৃত গিউয়েজ দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য।
  • ইমারতে বসবাসকারি জনসংখ্যা বেশি হলে সিউয়েজের পরিমাণ বেশি হয়। এতে করে সয়েল পাইপের উপর চাপ পড়ে। সয়েল পাইপের উপর চাপ কমানোর জন্য মেইন সিউয়ারে সংযোগ দেয়া হয়।
  • পৌর এলাকা ও শহর এলাকায় স্বাস্থ্যকর পরিবেশ প্রদানের জন্য ।
  • ইমারতে বসবাসকারীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যেন ব্যহত না হয় সেজন্য নিউয়েজ মেইন সিউয়ারে সংযোগ দেয়া হয়।

ইমারত থেকে যেসব নিষ্কাশন লাইন বের হয়
ব্যবহারের স্থান ও অবস্থা ভেদে ইমারত্ত থেকে সাধারণত নিম্নলিখিত নিষ্কাশন লাইন বাহির হয় :

  • হাত ধোয়ার বেসিন হতে নিষ্কাশন লাইন
  • সিংক হতে নিষ্কাশন লাইন
  • বাঘটাৰ হতে নিষ্কাশন লাইন
  • শাওয়ার বাথ হতে নিষ্কাশন লাইন
  • ফ্লাশিং সিস্টার্ন হতে নিষ্কাশন লাইন।
  • লন্ড্রি ট্রে বা ওয়ার্কিং মেশিন হতে নিষ্কাশন লাইন
  • গোসল খানা হতে নিষ্কাশন লাইন।
  • রান্নাঘর হতে নিষ্কাশন লাইন
  • ওয়াটার ক্লোসেট হতে নিষ্কাশন লাইন ইত্যাদি

সিউয়ার অ্যাপারটিন্যান্সের প্রয়োজনীয়তা
সিউয়ার অ্যাপারটিন্যান্স যেহেতু ভিন্ন ধরনের অবকাঠামো, তাই প্রতিটি অবকাঠামোর প্রয়োজন ভিন্ন ভিন্ন। তবে সাধারণত নিম্ন লিখিত কাজগুলো সুষ্ঠু এবং সুন্দরভাবে করার জন্য সিটয়ার অ্যাপারটিন্যান্স এর প্রয়োজন-

  • সিউয়ার লাইনকে সঠিকভাবে কার্যক্ষম রাখতে
  • সিউয়ার লাইন পরিদর্শন, পরিষ্কার ও মেরামতের করতে।
  • সিউয়ার লাইনকে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য

সয়েল লাইনে লিক হলে সমস্যা
ইমারত হতে সিউরেজ নিষ্কাশন লাইনের মধ্যদিরে সয়েল লাইনে এসে পড়ে। সয়েল লাইন দিয়ে সিউয়েজ প্রবাহিত হয়ে আবার মেইন লাইনে যায়। এ সয়েল লাইন যদি কোনো কারণে লিক হয়ে যায়, তাহলে বিভিন্ন
ধরণের সমস্যা হতে পারে। যেমন :

  • অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
  • চারিদিকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
  • তরল পদার্থ বাহিরে বের হয়ে আসায় জমে থাকা পানিতে মশা-মাছির বংশ বৃদ্ধি ঘটে।
  • মেরামত করা ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
  • ইমারতে বসবাসকারীদের স্বাভাবিক জীবন যাপন ব্যাহত হয়।
  • সয়েল লাইনে ব্যবহৃত ফিটিংস ও পাইপ নষ্ট হয়ে যায়।
  • সয়েল লাইনের পাশে সরবরাহ লাইন থাকলে তা ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।

সয়েল লাইন মেরামতের পদ্ধতি
সয়েল লাইন তৈরি করার পর তা রক্ষণাবেক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর পরিদর্শন, পরিষ্কারকরণ এবং মেরামত করা প্রয়োজন। এ তিনটি কাজের মধ্যে মেরামত কাজই কঠিনতম, গুরুত্বপূর্ণ, সময় সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। লাইন পরিদর্শনের সময় কোন ত্রুটি দেখা দিলে সাথে সাথে তা মেরামত করে দিতে হবে। প্রয়োজন হলে পুরো পাইপটিকে বদলে আরেকটি নতুন পাইপ বসানোর ব্যবস্থা করতে হবে। পাইপ পরিবর্তন করে নতুন পাইপ বসানোর কাজটি খুবই ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ।

কাজের ধারা

  • প্রথমে চিত্র অনুযায়ী নিবিড় পর্যবেক্ষণ কর।
  • শ্রেণি শিক্ষকের সহায়তায় পরিমাপসহ লে-আউট কর ৩. প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, ফিটিংস এবং সুরক্ষা পোশাক সংগ্রহ কর।
  • ড্রইং অনুসারে ইমারত থেকে মেইন সিউয়ার লাইনে সয়েল পাইপের সংযোগ স্থাপনের জন্য লে- আউট প্রদান কর।
  • লে-আউট প্রদান করার সময় এর কেন্দ্র রেখা চিহ্নিত কর।
  • কেন্দ্র রেখা থেকে খাদের চওড়া বরাবর চিহ্নিত কর।
  • লে-আউট অনুসারে খাদ খনন কর।
  • যথাযথ নিয়ম মেনে কাজ শেষ কর।
  • কাজ শেষে টুলস ও ইকুইপমেন্ট পরিষ্কার করে নির্ধারিত স্থানে সংরক্ষণ কর।

সতর্কতা

  • কাজ করার সময় অবশ্যই সুরক্ষা পোশাক পরিধান করতে হবে।
  • সঠিক ভাবে টুল্স, ফিটিংস এবং মালামালের ব্যবহার নিশ্চিত হতে হবে।
  • কাজের সময় মনোযোগী হতে হবে।
  • লে-আউট সঠিকভাবে দিবে।
  • ঢাল সঠিক ভাবে প্রদান করবে।
  • কোন কাজ করতে সমস্যা হলে শ্রেণি শিক্ষকের পরামর্শ নিতে হবে।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url